প্রধুমিত জাদুশিল্পী এম.এ.মুন্নার উত্থানের গল্প
ছোট বড়-ক্লোজআপ কিংবা ইলিউশন যাঁর সব জাদুই দারুণ উপভোগ্য। জাদুর যে কোনো একটা কৌশল প্রদর্শন করাই যাঁর কাছে মুখ্য বিষয় নয়, শৈল্পিক নৈপুণ্য প্রদর্শন, প্রাঞ্জল উপস্থাপনা, নিয়ন্ত্রিত লাইটিং, প্রয়োজনীয় নাটকীয়তা, সামঞ্জস্যপূর্ণ মিউজিক কিংবা বলা যায় ইন্দ্রিয়ের সর্বপ্রকার সংবেদনাকে উদ্বেলিত করার সকল প্রকার কৌশল যাঁর ভালোভাবে জানা; সেই প্রজ্ঞাবান ও প্রধূমিত জাদুশিল্পী হলেন এম.এ. মুন্না।
১৯৭৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চাকরিজীবী পিতার কর্মস্থল নরসিংদী জেলার ঘোড়াশাল উপজেলার বাংলাদেশ জুট মিলের ‘মিতালী’ কোয়ার্টার্সে জন্মগ্রহণ করেন প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। তবে তাঁর পিতার পৈতৃক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ থানার ভারেরা গ্রামে। তাঁর পুরো নাম মো: মোস্তাক আহমদ মুন্না। তাঁর পিতার নাম মো: আবদুল মালেক আর মাতা মোসাম্মাৎ খোদেজা আকতার। পিতা মাতার দু-সন্তানের মধ্যে এম.এ. মুন্না জ্যেষ্ঠ। তাঁর ছোট ভাই মকবুল আহমদ পান্না বর্তমান ঢাকাস্থ এ.বি. ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।
১৯৮৩ সালে ঘোড়াশাল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীতে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯৯৪ সালে এই স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। অতঃপর স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজে। ঐতিহ্যবাহী এই কলেজের নিয়মিত ছাত্র হিসেবে ১৯৯৮ সালে তিনি বিএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোনো এক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীর পুনঃপৌনিক হুমকিতে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পরীক্ষা না দিয়ে বগুড়া থেকে নরসিংদী জেলায় চলে আসেন জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। অতঃপর ২০০০ সালে নরসিংদী জেলার ‘পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজ’ থেকে তিনি বি.এ. (পাশ) কোর্সে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর এপটেক (APTECH) কম্পিউটার সেন্টার থেকে এক বছর মেয়াদী কম্পিউটারে ডিপ্লোমা কোর্স সমাপ্ত করেন প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না।
১৯৮৮ সালে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে তাঁরই এক প্রতিবেশী শৌখিন ম্যাজিশিয়ান মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহর কাছ জাদুবিদ্যায় হাতেখড়ি হয় এম.এ. মুন্নার। শৌখিন ম্যাজিশিয়ান মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ একজন নামকরা ম্যাজিশিয়ান ছিলেন না বটে তবে ছোটখাটো বেশকিছু ম্যাজিকের কৌশল ছিল তাঁর নখদর্পণে। তাছাড়া তাঁর দখলে ছিল ম্যাজিক শেখার প্রচুর বই। এসব বই পড়ে শৌখিন ম্যাজিশিয়ান মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ শিখে নিতেন নতুন নতুন ম্যাজিকের কৌশল। আর নিজে নিজেই তৈরি করে নিতেন জাদুর সরঞ্জাম। এরপর তিনি নতুন জাদুটি প্রথম প্রদর্শন করতেন এম.এ. মুন্নার সামনে। এতে এম.এ. মুন্না অবাক হলেই নিজেকে সার্থক মনে করতেন তিনি। পরবর্তীতে তিনি শিশু এম.এ. মুন্নার ভদ্র ও মধুর আচরণে এবং বুদ্ধিদীপ্ত কথা বার্তায় মুগ্ধ হয়ে তাকে ছোটখাটো কয়েকটি ম্যাজিক প্রদর্শনের কায়দা শিখিয়ে দিলেন এবং বিনামূল্যে দু-তিনটে জাদুর সরঞ্জাম দিয়ে দিলেন।
ম্যাজিশিয়ান শহীদ উল্লাহর সৌজন্যে প্রাপ্ত জাদুর সরঞ্জামগুলোর মধ্যে বিলিয়ার্ড বলের জাদুটি ছিল শিশু এম.এ. মুন্নার খুব প্রিয়। তাই জাদুর এ সরঞ্জাম শিশু জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না সর্বসময় হাতের কাছে রাখতেন। প্রায় সব সময় চলতো তাঁর অনুশীলন।
১৯৯০ সালে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে নরসিংদী জেলার ঘোড়াশালে ‘বাংলাদেশ জুট মিলের অফিসার্স ক্লাবে বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জীবনের প্রথম জাদু প্রদর্শনী করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন। জাদুবিদ্যার প্রতি অসম্ভব আগ্রহ দেখে একদিন তাঁর দাদা রসিকতা করেই বললেন, ‘কেবল জাদুর সেবা না করে, খানিকটা দাদুর সেবা কর-কাজে লাগবে।’
কবি নজরুল কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি তাঁর চাচা জজ কোর্টের এ্যাডভোকেট আবুল মনসুর আহম্মদের পুরানো ঢাকার বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন। সেই সুবাদে বিশিষ্ট ম্যাজিশিয়ান আফজাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় তাঁর। বিশিষ্ট ম্যাজিশিয়ান আফজাল হোসেন তখন পুরানো ঢাকার দয়াগঞ্জের নিজ বাড়ির ঠিকানায় ‘জাগল্ ম্যাজিক একাডেমী’ পরিচালনা করতেন। ম্যাজিশিয়ান আফজাল হোসেন এম.এ. মুন্নাকে ম্যাজিকের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্যে কলকাতায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী কিশোর জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না ১৯৯৬ সালের ১ অক্টোবর ম্যাজিকের আধুনিক সরঞ্জাম কেনার জন্যে ভারতে যান। এ-সময় তাঁর সফর সঙ্গী বাংলাদেশী অন্যান্য জাদুশিল্পীদের সঙ্গে তিনি যান বিশ্ববরেণ্য জাদুশিল্পী পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-এর কলকাতার বালীগঞ্জের বাড়িতে। ঐ দিন সন্ধ্যায় কলকাতার মহাজাতি সদনে ছিল বিশ্ববরেণ্য জাদুশিল্পী পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-এর একক জাদু প্রদর্শনী। তাঁর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের অন্যান্য জাদুশিল্পীদের সঙ্গে এম.এ. মুন্না সন্ধ্যায় হাজির হলেন মহাজাতি সদনে বিশ্ববরেণ্য জাদুশিল্পী পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-এর ম্যাজিক শো ‘ইন্দ্রজাল’ দেখার জন্যে। জাদুশিল্পী পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-এর একক জাদু প্রদর্শনী দেখার পর জাদুর প্রতি তাঁর আগ্রহ যেন আরো বেড়ে গেল। দেশে ফিরে ঐ বছর শেষের দিকে অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ জাদুকর পরিষদের সদস্যপদ লাভ করেন। ঘোড়াশাল পলাশের যে কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এখন প্রধান আকর্ষণ।
১৯৯৭ সালে এক বন্ধুর প্ররোচণায় তিনি বগুড়া চলে যান। স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হন আযিযুল হক কলেজে। এ-সময় বগুড়ার সাত মাথায় সপ্তপদী মার্কেটে ‘স্টার ম্যাজিক ক্লাব’ নামে একটি ম্যাজিক একাডেমী খোলেন তিনি আর তাঁর বন্ধু ম্যাজিশিয়ান আবু ওবায়েদা খোকন। এ বছর জুলাই মাসে আবার কলকাতায় যান জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। তখন তাঁর সৌভাগ্য হয় সরাসরি দর্শক সারিতে উপস্থিত থেকে ভারতীয় বিখ্যাত জাদুশিল্পী কে. লাল সিনিয়র (World’s Greatest Magicians K. Lal Sinior) ও বিশিষ্ট জাদুশিল্পী কে. লাল, জুনিয়রের জাদু প্রদর্শনী দেখার। যা হোক, বি.এস.সি.তে পড়াশোনার পাশাপাশি ইংরেজি চর্চার জন্য তিনি ভর্তি হন ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ স্কুল (International language School), বড়গলা, বগুড়ায়। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এম.এ. মুন্না স্থানীয় সবার মন জয় করে নেন। ছোট বড় সবার সহযোগিতায় তিনি সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইংলিশ ক্লাব’। আর এদিকে ল্যাংগুয়েজ স্কুলের প্রিন্সিপাল মো: আতাউর রহমানের পরামর্শে ১৯৯৮ সালের প্রথম দিকে বগুড়ার নামাজগড় এলাকায় প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না ‘মিরাকল্ ম্যাজিক একাডেমী’ নামে একটি জাদু প্রশিক্ষণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। দারুণভাবে জমে ওঠলো ‘মিরাকল্ ম্যাজিক একাডেমী’। তাছাড়া এ-সময় পাক্ষিক যাযাবর নামে একটি স্থানীয় পত্রিকায় নিয়মিত জাদু শেখাতেন তিনি। অল্প কিছু দিনের মধ্যে পুরো বগুড়া শহরে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি।
১৯৯৮ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের পশ্চিম বঙ্গের জাদুকরদের আমন্ত্রণে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার জন্যে কলকাতায় যান তিনি এবং এক সপ্তাহ কলকাতায় অবস্থান করেন। এ-সময় তিনি পরিচিত হন ভারতীয় বিশিষ্ট ম্যাজিশিয়ান পি. কে. সরকার, জাদুশিল্পী দেবাশীশ গাঙ্গুলী, জাদুশিল্পী জে. মহান্তী, জাদুশিল্পী কে. নন্দী, জাদুশিল্পী সাদেক ও ‘ফান টাইম ম্যাজিক শপ’ এর সত্ত্বাধিকারী বিশিষ্ট ম্যাজিক মেকার সাম দালালের সঙ্গে। বিভিন্ন ম্যাজিক ডিলারের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ম্যাজিক ইনস্ট্রুমেন্ট সংগ্রহ করে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে এসে এ বছর শেষের দিকে তিনি যোগ দেন ‘এশিয়া সার্কাসে’। একটানা তিনমাস সার্কাস দলের নিয়মিত পারফরমার হিসেবে জাদু প্রদর্শনী করেন তিনি। এর পর থেকে প্রতি বছর দু-তিন বার কলকাতায় যান ম্যাজিকের নতুন নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহ করার জন্যে। এভাবেই জাদুশিল্প নেশা থেকে পেশায় পরিণত হয়ে যায় তাঁর।
১৯৯৮ সালে ঘোড়াশাল বাজারে ‘মির্যা ম্যাজিক একাডেমী’ প্রতিষ্ঠা করেন তরুণ জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। ১৯৯৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধার ডিফেন্স ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু হলে’ বিপুল সংখ্যক দর্শক শ্রোতার উপস্থিতিতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা চোখ জুড়ানো জাদু প্রদর্শনী করেন তিনি। ২০০১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নরসিংদী জেলার ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুট মিলস্ অফিসার্স ক্লাবে ম্যাজিক শো করেন তিনি।
অতঃপর ২০০২ সালের ৭ জানুয়ারি নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার ‘মেধা বিকাশ কিন্ডার গার্টেনের’ প্রতিষ্ঠা বার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শনী করেন তিনি। এছাড়া এবছর ২৯ মার্চ বি. বাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার ‘অগ্রদূত সমাজ কল্যাণ সংঘের’ উদ্যোগে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শন করেন তিনি। সরাইলের সবুজ ছায়া ঘেরা গ্রাম দেওড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, সন্ধ্যা ৭ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক রুদ্ধশ্বাসে উপভোগ করেন তাঁর এই জাদুর অনুষ্ঠান।
২০০৪ সালের ১১ মে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার, পূর্ব করপাড়া গ্রামের নিবাসী, হাজী মো: গোলাম মোস্তাফা ও মিসেস নুরজাহান বেগমের দ্বিতীয় কন্যা মাহাবুবা আফরোজ লোপা’র সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। পরবর্তীতে মাহবুবা আফরোজ লোপা’র গর্ভে জন্মগ্রহণ করে এক পুত্রসন্তান। জনক এম.এ. মুন্না ওর নাম রেখেছেন সফ ওয়ান আহমদ সেজান।
২০০৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকা বিয়াম অডিটোরিয়ামে মানিকগঞ্জ জেলার সার্বিক কমিউনিকেশন সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত গুণিজন সংবর্ধনা, প্রিন্সেস ডায়না স্বর্ণপদক বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাদুপ্রদর্শন করেন নেত্রকোনার ‘মির্যাক্স ম্যাজিক একাডেমী’র প্রতিষ্ঠাতা পুরোধা এম.এ. মুন্না। উক্ত অনুষ্ঠানে নৈপুণ্যপূর্ণ জাদু প্রদর্শন এবং জাদুশিল্পে অবদান রাখার জন্যে তাঁকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান খান হাতে তুলে দেন এ পুরস্কার।
২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জে রংধনু ডান্স গ্রুপের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শন করেন জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। এ অনুষ্ঠানে যোগদানের বদৌলতে তিনি পরিচিত হন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি এস.এম. সরোয়ার খোকনের সাথে। এ-সময় তাঁর মাধ্যমে পরিচিত হন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আবেদ হোসেনের সঙ্গে। এর কিছুদিন পর কাজী আবেদ হোসেন নিজ বাসভবনে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্নাকে। তাঁর প্রদর্শিত জাদু দেখে ভীষণভাবে মুগ্ধ হলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আবেদ হোসেন। সেই থেকে প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে যাতে সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠতে পারেন তার সব রকমের চেষ্টা ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন কাজী আবেদ হোসেন।
২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু নাসের খান, মহাসচিব কামাল পাশা চৌধুরী (বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) ও মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আবেদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পালিত হয় ‘জাতীয় হাওর উৎসব ২০০৮’। এ-অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শন করেন প্রধুমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না। আর এ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাননীয় উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী। দর্শক সারিতে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গসহ অভিজাত ও অতি সম্মানিত দেশি-বিদেশি অতিথিগণ। মনোমুগ্ধকর জাদু প্রদর্শনীর এক পর্যায়ে তরুণ জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না মঞ্চ থেকে নেমে গেলেন মাননীয় উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরীর কাছে। যথাযথ সম্মানের সাথে তাঁর হাতে তুলে দিলেন একখণ্ড স্রেফ সাদা কাগজ ও একটি কলম। বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করলেন তাঁর প্রদর্শিত জাদু ও তাঁর সম্পর্কে কিছু লিখে নিচে স্বাক্ষর করে দেয়ার জন্যে।
মাননীয় উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্নার দৃষ্টিনন্দন জাদু আর তাঁর চমৎকার উপস্থাপনা সম্পর্কে প্রশংসা করে অতি সংক্ষেপে কিছু লিখে নিচে স্বাক্ষর করে দিলেন। জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না কাগজ খণ্ড নিয়ে মঞ্চে উঠে এলেন। অতঃপর জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্না মাননীয় উপদেষ্টার পারসনাল সেক্রেটারিকে দর্শক সারি থেকে মঞ্চে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। তাঁর আমন্ত্রণে মঞ্চে উঠে এলেন মাননীয় উপদেষ্টার পারসনাল সেক্রেটারি। এম.এ. মুন্না তাঁর হাতে তুলে দিলেন লিখিত কাগজ খণ্ডটি। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে পড়ে শোনাতে অনুরোধ করলেন বাংলাদেশের মাননীয় উপদেষ্টার ফরমান। আগত দর্শক পড়ে শোনালেন:
‘তরুণ জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্নার অসাধারণ জাদু নৈপুণ্য ও লোকাতীত গুণে অভিভূত হয়ে আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী হাওড়বাসীর প্রধান সমস্যা বিদ্যুৎ, রেলপথ ও সড়কপথ উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে আশ্বাস দিচ্ছি যে মোহনগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি পূরণে আমি আগামী এক মাসের মধ্যে কিছু একটা করে দেখাব ইনশাল্লাহ।’
পাঠ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল করতালিতে পুরো হল রুম যেন ফেটে পড়লো। সেই সঙ্গে মাননীয় উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী উঠে এলেন মঞ্চে। প্রধূমিত জাদুশিল্পী এম.এ. মুন্নাকে অভিনন্দন জানালেন চমৎকার এই ‘ফোর্স রাইটিং’ জাদুটি প্রদর্শনের জন্য এবং তাঁর শৈল্পিক গুণাবলীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
প্রণিধানযোগ্য যে এর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই মাননীয় উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে, মোহনগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি মোহনগঞ্জ থেকে নেত্রকোনার যাতায়াতের অবহেলিত ৩৫ কি: মি: সড়কের দ্রুত উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে দশ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। অতি দ্রুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি উন্নয়নের জন্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্য দিয়ে অবহেলিত মোহনগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির চির অবসান হয়। একজন জাদুশিল্পী হিসেবে সমাজের জন্যে এতোটুকু অবদান রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করেন তিনি।